বাংলাদেশে কোমর ব্যথা: কেন এটি মহামারী এবং আসলে কী কাজ করে
রিকশাচালক থেকে শুরু করে অফিস কর্মী পর্যন্ত, বেশিরভাগ বাংলাদেশির কোমর ব্যথা হয়। কখন এটি গুরুতর তা বুঝুন এবং অস্ত্রোপচার ছাড়াই এটি কীভাবে ঠিক করবেন।
আপনি যদি ঢাকায় কাজ করেন — আপনি পোশাক কারখানার কর্মী, একজন আইটি পেশাদার, বা একজন সিএনজি চালক হোন না কেন — আপনার কোমর ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। নিম্ন কোমর ব্যথা বিশ্বব্যাপী অক্ষমতার প্রধান কারণ, এবং বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।
এখানে সাধারণ প্রতিক্রিয়া হল: একটি ব্যথানাশক (সাধারণত নেপ্রোক্সেন) সেবন করা, কিছু মলম লাগানো, হয়তো পাড়ার কম্পাউন্ডার থেকে একটি 'ম্যাসেজ' নেওয়া, এবং সেরাটার আশা করা। এই পদ্ধতি সাধারণত বারবার ব্যথার কারণ হয় এবং কখনও কখনও পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তোলে।
কেন আপনার কোমর ব্যথা হয়
৯০% কোমর ব্যথা যান্ত্রিক প্রকৃতির — অর্থাৎ এর পেছনে কোনো গুরুতর অন্তর্নিহিত রোগ নেই। সাধারণ কারণগুলি হল:
- খারাপ ভঙ্গি (Posture): ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডেস্ক বা ফোনের উপর ঝুঁকে থাকা
- দুর্বল কোর পেশী: আপনার পেটের এবং পিঠের পেশী আপনার মেরুদণ্ডকে সমর্থন করার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী নয়
- ভুল ভঙ্গিতে ভারী জিনিস তোলা: হাঁটু না বাঁকিয়ে কোমর থেকে ঝুঁকে পড়া
- দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা/দাঁড়িয়ে থাকা: বিরতি ছাড়া উভয়ই খারাপ
- স্থূলতা: কোমরের চারপাশে অতিরিক্ত ওজন মেরুদণ্ডের উপর চাপ সৃষ্টি করে
বিপদ সংকেত — অবিলম্বে একজন ডাক্তার দেখান যদি:
- ব্যথা হাঁটু পর্যন্ত বা তার নিচে পা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে (সায়াটিকা)
- পা বা পায়ে অসাড়তা বা দুর্বলতা
- মূত্রাশয় বা অন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ হারানো
- পড়ে যাওয়া বা দুর্ঘটনার পর ব্যথা
- ৬ সপ্তাহ পরেও ব্যথার কোনো উন্নতি না হওয়া
- কোমর ব্যথার সাথে ব্যাখ্যাতীত ওজন হ্রাস
আসলে কী সাহায্য করে
বিছানায় বিশ্রাম নয়। 'এক সপ্তাহ শুয়ে থাকুন' এই পুরনো পরামর্শটি সেকেলে এবং আসলে সুস্থ হতে দেরি করায়। হালকা নড়াচড়া ভালো।
ফিজিওথেরাপি হল প্রমাণিত প্রথম সারির চিকিৎসা। একজন যোগ্য ফিজিওথেরাপিস্ট (কোনো জিম প্রশিক্ষক নয়, কোনো 'কবিরাজ' নয়) আপনাকে আপনার নির্দিষ্ট সমস্যার জন্য উপযুক্ত ব্যায়াম শেখাতে পারেন।
কোর শক্তিশালীকরণ — প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট প্ল্যাঙ্ক এবং ব্যাক এক্সটেনশন অনুশীলন পুনরাবৃত্তি রোধ করতে পারে।
আর্গোনমিক সমাধান: আপনি যদি ডেস্কে বসেন, আপনার চেয়ারের উচ্চতা এমনভাবে সামঞ্জস্য করুন যাতে আপনার পা মেঝেতে সমতল থাকে এবং আপনার স্ক্রিন চোখের স্তরে থাকে।
অস্ত্রোপচার খুব কমই প্রয়োজন — কোমর ব্যথার ৫% এরও কম ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। যদি কেউ একবার দেখেই মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন, তাহলে একজন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে দ্বিতীয় মতামত নিন।