বাংলাদেশে নীরবে বাড়ছে কিডনি রোগ — নিজেকে সুরক্ষিত রাখার উপায়
দক্ষিণ এশিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের হার বাংলাদেশে অন্যতম সর্বোচ্চ। বেশিরভাগ মানুষ যখন জানতে পারে, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। সচেতনতাই প্রতিরোধের প্রথম ধাপ।
বাংলাদেশে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ (CKD) একটি ক্রমবর্ধমান নীরব মহামারী। আনুমানিক ১৮-২০% প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কিডনির কার্যক্ষমতা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত, এবং তাদের বেশিরভাগই এ বিষয়ে অবগত নন। কিডনি তার প্রায় ৭০% কার্যক্ষমতা হারানোর আগে কোনো অভিযোগ করে না।
যখন লক্ষণগুলো প্রকাশ পায় — যেমন পা ফোলা, ফেনা যুক্ত প্রস্রাব, ক্লান্তি — তখন ক্ষতি প্রায়শই অপরিবর্তনীয় হয়ে যায়।
বাংলাদেশে কেন এত বেশি প্রভাব?
বেশ কয়েকটি কারণ একত্রিত হয়েছে:
- অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস: বিশ্বে ডায়াবেটিসের হার বাংলাদেশে অন্যতম সর্বোচ্চ। ডায়াবেটিস ধীরে ধীরে বছরের পর বছর ধরে কিডনি নষ্ট করে।
- অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ: উচ্চ রক্তচাপ আপনার কিডনির সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
- ব্যথানাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার: প্রতিটি ব্যথার জন্য ক্যান্ডির মতো এনএসএআইডি (যেমন নেপ্রোক্সেন) সেবন করা হয় — এগুলি কিডনির জন্য বিষাক্ত।
- দূষিত পানি ও খাবার: ভূগর্ভস্থ পানিতে ভারী ধাতু এবং আর্সেনিক।
- পরীক্ষার অভাব: বেশিরভাগ মানুষ কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করে না যতক্ষণ না অনেক দেরি হয়ে যায়।
কাদের পরীক্ষা করানো উচিত?
যদি আপনার নিচের যেকোনো একটি থাকে, তাহলে প্রতি বছর কিডনি কার্যকারিতা পরীক্ষা করান:
- ডায়াবেটিস (টাইপ ১ বা টাইপ ২)
- উচ্চ রক্তচাপ
- কিডনি রোগের পারিবারিক ইতিহাস
- ৪০ বছরের বেশি বয়স
- নিয়মিত ব্যথানাশক ব্যবহার
পরীক্ষাটি সহজ এবং সস্তা: সিরাম ক্রিয়েটিনিন এবং ইউরিন মাইক্রোঅ্যালবুমিন। মোট প্রায় ৫০০-৮০০ টাকা খরচ হয়। মানসিক শান্তির জন্য এটি একটি সামান্য মূল্য।
প্রতিরোধ — আজই আপনি যা করতে পারেন
- রক্তে শর্করা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করুন — এগুলি কিডনির দুটি সবচেয়ে বড় শত্রু।
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন (প্রতিদিন ২-৩ লিটার), বিশেষ করে বাংলাদেশের গরমে।
- ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত ব্যথানাশক সেবন করবেন না।
- লবণ গ্রহণ কমান — বাংলাদেশের খাবারে সাধারণত সোডিয়ামের পরিমাণ খুব বেশি থাকে।
- মূত্রনালীর সংক্রমণকে অবহেলা করবেন না — বারবার মূত্রনালীর সংক্রমণ কিডনির ক্ষতি করতে পারে।
ডায়ালাইসিসের প্রতি সেশনে ৮,০০০-১২,০০০ টাকা খরচ হয়, সপ্তাহে তিনবার। কিডনি প্রতিস্থাপনে লাখ লাখ টাকা খরচ হয়। প্রতিরোধে এর একটি ভগ্নাংশ খরচ হয়। পরীক্ষা করান।