বাংলাদেশে মেডিকেল ইমার্জেন্সি: প্রথম ১০ মিনিটে কী করবেন
যখন কেউ অজ্ঞান হয়ে পড়ে, হার্ট অ্যাটাক হয়, অথবা গুরুতর আঘাত পায় — প্রথম কয়েক মিনিটে আপনার পদক্ষেপই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশিদের জন্য একটি প্রাথমিক চিকিৎসার নির্দেশিকা।
বাংলাদেশে কোনো নির্ভরযোগ্য ৯১১ (জরুরি সেবা) নেই। ঢাকায় যানজটের কারণে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে গড়ে ৩০-৬০ মিনিট সময় লাগে। যখন কোনো মেডিকেল ইমার্জেন্সি ঘটে, রোগীর আশেপাশে থাকা লোকেরাই প্রথম সাহায্যকারী। সেই সংকটময় প্রথম কয়েক মিনিটে আপনার নেওয়া পদক্ষেপ জীবন-মৃত্যুর পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
হার্ট অ্যাটাক
লক্ষণ: বুকে ব্যথা বা চাপ (যেন একটি হাতি বুকের উপর বসে আছে), ব্যথা বাম হাত বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়া, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, বমি বমি ভাব।
কী করবেন:
- অবিলম্বে সাহায্যের জন্য ডাকুন — কাউকে অ্যাম্বুলেন্স/সিএনজি আনার জন্য পাঠান।
- ব্যক্তিকে আরামদায়ক অবস্থানে বসান বা শুইয়ে দিন।
- তাদের অ্যাসপিরিন (৩০০ মিগ্রা) চিবিয়ে খেতে দিন — আস্ত গিলতে দেবেন না। এটি রক্ত পাতলা করে এবং হার্টের পেশী রক্ষা করতে পারে।
- যদি তাদের জিটিএন (নাইট্রোগ্লিসারিন) স্প্রে থাকে, তাহলে এটি ব্যবহার করতে সাহায্য করুন।
- যদি তারা অজ্ঞান হয়ে যায় এবং শ্বাস বন্ধ করে দেয়, তাহলে সিপিআর (CPR) শুরু করুন: বুকের মাঝখানে শক্তভাবে এবং দ্রুত চাপ দিন, প্রতি মিনিটে ১০০-১২০ বার।
গুরুতর রক্তপাত
দুর্ঘটনা, পড়ে যাওয়া বা আঘাত থেকে — ঢাকার যানজটে যা খুবই সাধারণ।
কী করবেন:
- একটি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে সরাসরি চাপ দিন। শক্তভাবে চাপুন।
- বারবার পরীক্ষা করবেন না — কমপক্ষে ১০ মিনিট চাপ বজায় রাখুন।
- যদি রক্ত কাপড় ভেদ করে আসে, তাহলে উপরে আরও কাপড় যোগ করুন — প্রথমটি সরাবেন না।
- সম্ভব হলে আঘাতপ্রাপ্ত অঙ্গটি হার্টের উপরে তুলে ধরুন।
- দ্রুত হাসপাতালে যান।
পোড়া
বাংলাদেশে রান্নাঘরের পোড়া খুবই সাধারণ।
কী করবেন:
- পোড়া জায়গাটি ২০ মিনিট ধরে চলমান ঠান্ডা জলের নিচে রাখুন। হ্যাঁ, পুরো ২০ মিনিট।
- টুথপেস্ট, ঘি, বরফ বা কাঁচা ডিম লাগাবেন না (এগুলি বাংলাদেশের সাধারণ 'চিকিৎসা' যা আরও ক্ষতি করে)।
- একটি পরিষ্কার, নন-স্টিক ব্যান্ডেজ দিয়ে আলতো করে ঢেকে দিন।
- আপনার হাতের তালুর চেয়ে বড় কোনো পোড়া, মুখ/হাত/জয়েন্টের কোনো পোড়া, অথবা রাসায়নিক/বৈদ্যুতিক পোড়ার জন্য চিকিৎসকের সাহায্য নিন।
শ্বাসরোধ (Choking)
বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সাধারণ।
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য: তাদের পিছনে দাঁড়ান, একটি মুষ্টি তৈরি করুন, এটি নাভির উপরে রাখুন এবং তীক্ষ্ণভাবে ভিতরের দিকে ও উপরের দিকে চাপ দিন (হেইমলিচ ম্যানুভার)। বস্তুটি বেরিয়ে না আসা পর্যন্ত পুনরাবৃত্তি করুন।
১ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য: আপনার বাহুর উপর উপুড় করে রাখুন, কাঁধের ব্লেডের মাঝখানে ৫টি পিঠে আঘাত করুন, তারপর উল্টে ৫টি বুকের চাপ দিন।
খিঁচুনি/আক্ষেপ (Seizure/Convulsion)
কী করবেন:
- আশেপাশের শক্ত জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলুন।
- তাদের মুখে কিছু দেবেন না (এটি একটি ভুল ধারণা)।
- তাদের ধরে রাখার চেষ্টা করবেন না।
- কাঁপুনি বন্ধ হওয়ার পর তাদের একপাশে ঘুরিয়ে দিন।
- খিঁচুনির সময় লক্ষ্য করুন — যদি এটি ৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়, তবে এটি একটি জরুরি অবস্থা।
জরুরি নম্বরসমূহ
- জাতীয় জরুরি সেবা: ৯৯৯
- ফায়ার সার্ভিস: ১৬১৬৩
- অ্যাম্বুলেন্স সেবা: বিভিন্ন (এখনই আপনার ফোনে ২-৩টি নম্বর সেভ করুন)।
একটি প্রাথমিক চিকিৎসার কোর্স করুন। আপনার বিনিয়োগ করা এই দুই ঘণ্টা একটি জীবন বাঁচাতে পারে — হয়তো আপনার প্রিয়জনের জীবন।